সমুদ্র সৈকত জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নানা ধরণের রঙবেরঙের পাথর, যার রঙ গুলি দেখতে অনেকটা চুনি পান্না এবং পোখরাজ ইত্যাদি মূল্যবান পাথরের মতো।     

সৈকতে এমন বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্য খুবই দৃষ্টি নান্দনিক কারণ সমুদ্র সৈকতে সাধারণত আমরা লাল বা ধূসর রঙের বালি দেখে এসেছি ।  

আপাত দৃষ্টিতে এগুলি মূল্যবান পাথর মনে হলেও , এগুলি আসলে সাধারণ কাঁচের টুকরো যা আবহাওয়া বিকারের কারণে তৈরি হয়েছে।

এই কাঁচ গুলিকে বলা হয় সামুদ্রিক কাঁচ বা সি গ্লাস অথবা সৈকত গ্লাস। এগুলি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষয়ীভূত কাঁচের টুকরো, যা প্রায়শই পাথরের ন্যায় সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সমুদ্রে ফেলে দেওয়া সাধারণ কাঁচের টুকরো দীর্ঘদিন ধরে ভৌত এবং রাসায়নিক আবহাওয়া বিকারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে এরূপ আকার নেয়।

এই পাথরের মতো কাঁচগুলি  সংগ্রহ করা ঘর সাজানোর জন্য কিংবা শখ হিসাবে নিজের কাছে সমস্ত রঙের পাথরের সংগ্রহ রেখে দেওয়া ।

সাধারণ কাঁচ সামুদ্রিক কাচের বৈশিষ্ট্যগত গঠন ও আকৃতি পেতে ২০ থেকে ৪০ বছর এবং কখনও কখনও ১০০ থেকে ২০০ বছর সময় লাগে।

 বিশ্বের সর্বত্র এমন সমুদ্র সৈকত কম বেশি আছে তবে যে জায়গাগুলি সব থেকে বিখ্যাত তা হল উত্তর-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, স্কটল্যান্ড, ইতালি ইত্যাদির সমুদ্র সৈকত।

এই সাধারণ কাঁচের মধ্যে রয়েছে বিয়ার, উইস্কি, জ্যাম, জেলি, সফট ড্রিঙ্কস, স্প্রিট, ঔষধপত্র ইত্যাদি বোতলের ভাঙা টুকরো। 

বিভিন্ন রঙের কাঁচের ন্যায় পাথরের মধ্যে সবুজ, সাদা এবং বাদামী রঙের পাথর বেশী দেখতে পাওয়া যায়। নীল এবং অ্যাম্বার রঙের পাথর কম দেখতে পাওয়া যায়।