নাইরোবি ফ্লাইসের আক্রমণে সিকিমের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শতাধিক পড়ুয়া সম্প্রতি ‘নাইরোবি ফ্লাইস’-এর সংস্পর্শে আসার পরে ত্বকের গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন।

নাইরবি ফ্লাই বা অ‍্যাসিড পোকার আবির্ভাব হয়েছে পূর্ব আফ্রিকায়। এই পতঙ্গের দুটি প্রজাতি রয়েছে। একটি প্রজাতির রং হয় কমলা, অন্যটির কালো। বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে এরা দ্রুত বংশবিস্তার করে।

চিকিত্‍সকদের মতে নাইরবি ফ্লাই বা অ্যাসিড পোকা মানে এরা নাইট্রিক অ্যাসিড বা হাইড্রোক্লরিক অ্যাসিড তৈরি করে না।

এরা তৈরি করে পলি-আন- স্যাটুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (C10H12 O4)। সেটি মারাত্মক বিষ।পোকামাকড়গুলি হলুদ তরল নির্গত করে যাতে ক্যান্থারিডিন থাকে এবং মানুষের ত্বকে ফোস্কা সৃষ্টি করে।

এদের কোনো হুল বা স্টিং থাকেনা, তাই এরা হুল ফোটায় না। এই পোকারা মানুষদের কামড়াতে পারেনা। এরা গায়ে উঠলে বা ত্বকের সংস্পর্শে এলে কোনোরকমের কোনো ক্ষতি হয় না। 

পোকাটিকে মেরে ফেললেই তার শারীরিক রস ত্বকে ঘা সৃষ্টি করবে এবং জায়গাটি পুড়ে যাবে। তবে এতে চিন্তার কিছু নেই। ।সেই ঘা কিছু দিন পর মিলিয়ে গিয়ে চামড়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে। 

এই পোকা চাষবাসের বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকাকে মেরে খেয়ে ফেলে ফসলের উন্নতি করে অনেক। তাই এদেরকে natural predator বা natural enemy of pest বলা হয়। 

স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এই মাছিগুলিকে বিরক্ত না করে বা স্পর্শ না করে আলতোভাবে উড়িয়ে দিতে হবে। এই মাছি যেখানে বসেছে সেই জায়গাটিও সাবান এবং জল দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।  

স্বাস্থ্য দফতর আরও জানিয়েছে যে জামা কাপড় ভালো করে ঝেড়ে নিয়ে পরতে হবে।সন্ধ্যে নামার কমপক্ষে এক ঘন্টা আগে বাড়ির দরজা জানালা বন্ধ করে দিতে হবে।

অ্যাসিড মাছি মরে গেলে তার দেহ চূর্ণ করা উচিত নয় কারণ এতে শক্তিশালী বিষ রয়েছে যাতে ত্বক ফুলে যেতে পারে।